স্মৃতির কথা বলা প্রয়োজন

অধিকাংশ মানুষ তার প্রথম স্কুলের দিন মনে রাখে। তার আগের ঘটনা কারও তেমন মনে থাকে না। আমাদের জন্মের প্রথম কয়েকদিনের কথা আমাদের মনেই থাকে না। কিন্তু এমন কেন হয়? কেন আমাদের শিশু বয়সের অভিজ্ঞতার কথা আমাদের মনে নেই? আমাদের ক্রমবিকাশই এটার কারণ। কথা বলা ও স্মৃতি প্রায় একসাথে বিকশিত হয়। কোন কিছ মনে রাখার জন্য একজন মানুষের কথা বলার দরকার হয়। তার অভিজ্ঞতা বর্ণনার জন্য তার শব্দ দরকার হয়। বাচ্চাদের উপর অনেক গবেষণা করা হয়েছে। এই গবেষণায় একটি আকর্ষণীয় বিষয় আবিস্কৃত হয়েছে। যখন শিশুরা কথা বলতে শিখে তখন তারা পূর্বের সব ভুলে যায়। কথা বলা শুরু মানে স্মৃতিরও শুরু।

শিশুরা জন্মের প্রথম তিন বছর প্রচুর শিখে। প্রতিদিনই তারা নতুন কিছু শিখে। এই বয়সে তারা গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু শিখে। তা সত্ত্বেও, সবকিছুই হারিয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানীরা এটাকে আখ্যা দিয়েছেন শিশুসুলভ স্মৃতিভ্রংশ নামে। শুধুমাত্র বিভিন্ন জিনিসের নাম তাদের মনে থাকে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি ধরে রাখে। এটা দিনপঞ্জিতার মত। আমাদের জীবনে যা দরকার তা এখানে রেকর্ড করে রাখা হয়। এভাবেই, আত্মজীবনীমূলক স্মৃতি আমাদের পরিচয় গঠন করে। স্থানীয় ভাষা শিক্ষার উপর এর বিকাশ নির্ভও করে। শুধু কথা বলে আমরা আমাদের স্মৃতিকে সক্রিয় করতে পারি। শিশু হিসেবে আমরা যা শিখি তা প্রকৃতপক্ষে হারিয়ে যায়না। আমাদের মস্তিষ্কের কোথাও না কোথাও তা থেকে যায়। আমরা সেগুলোর নাগাল পাই না... লজ্জার কথা, তাই না?